Showing posts with label এলোমেলো ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label এলোমেলো ভাবনা. Show all posts

Sunday, February 21, 2016

এলোমেলো ভাবনা (১৪)

(১) ম্যাচুরিটি বয়সের সাথে নয়; অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত। যার অভিজ্ঞতা যত বেশি, সে ততোবেশি ম্যাচিউরড।

(২) চিন্তা-ভাবনা আর যুক্তির আলোকে যেটা বলা হয় তাকে দর্শন বলা যেতে পারে; সমাজবিজ্ঞান না। সমাজবিজ্ঞান হতে হলে তার পিছনে অবশ্যই ডেটা বা তথ্য-প্রমান থাকতে হবে।

(৩) ভিন্নমতের সাথে ভিন্নমত দিয়েই লড়তে হয়, চাপাতি বা পিস্তল দিয়ে নয়।

(৪) আগেকার বাঙালি সমাজে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের কাছে ছিলেন একচ্ছত্রভাবে গুরু এবং শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু উপমহাদেশে ইংরেজরা শাসনক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে তারা বন্ধু ও প্রেমিকে পরিনত হতে শুরু করেন।

(৫) যে যা না, তা হওয়ার ভান করাটা হাস্যকর।

(৬) পাক-ভারত উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা থাকলেও পতিদাহ প্রথা কেন ছিল না?

(৭) মার্ক্সবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সবখানে অর্থনীতি দেখে এবং অর্থনীতি পরিবর্তন হলে দুনিয়ার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করে।

কিন্তু মানুষের জীবনে অর্থনীতি বড় ভূমিকা রাখলেও এটাই একমাত্র শেষকথা না। ব্যক্তি মানুষের জীবনে আবেগ-অনুভূতি, সংস্কৃতি-ইডিওলজি মোটেই কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

(৮) পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষরা নারীদের টাকা, গায়ের জোর এবং ধর্মের নামে বন্দী করে রাখে। কাজেই এই তিন ক্ষেত্রে নারীরা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে না পারলে তাদের মুক্তি নাই।

(৯) সমাজবিজ্ঞান আর সমাজচিন্তা আমার কাছে এক নয়।

সমাজবিজ্ঞান হতে হলে অবশ্যই তার পিছনে ডেটা বা তথ্য-প্রমান থাকতে হবে। আর সমাজচিন্তা হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। এটাকে সমাজবিজ্ঞান গবেষণা প্রকল্পের হাইপোথিসিস বা অনুমান বলা যেতে পারে।

(১০) ঘরবউ থাকা যদি দোষের না হয়; তাহলে ঘরজামাই থাকা কেন দোষের হবে?

Monday, December 28, 2015

এলোমেলো ভাবনা (১৩)

(১) বিজ্ঞানই সর্বশেষ জ্ঞান। কেননা বিজ্ঞান কোন স্থির বিষয় না। যখনই কোন জ্ঞান প্রমানিত হবে সেটাই বিজ্ঞান বলে বিবেচিত হবে।

(২) মিথ্যাতো মিথ্যাই। তার আবার ছোট আর বড় কী? তবে হ্যা, হোয়াইট লাই কিন্তু মিথ্যা না।

(৩) আমরা যা শুনি তা হচ্ছে মতামত, তাকে একমাত্র ফ্যাক্ট মনে করার যেমন কিছু নাই তেমনি আমরা যা দেখি তা হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি, তাকেও একমাত্র সত্য ভাবার কিছু নাই।

(৪) জীবন বেঁচে থাকার জন্য; দুশ্চিন্তা করার জন্য না।

(৫) স্মার্টনেস হচ্ছে সব জায়গায় সব পরিবেশে সবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া।

(৬) সমাজবিজ্ঞান চর্চার জন্য ভিন্নমত জরুরি, একমত না।

(৭) আপনি যাকে ভালবাসেন আর আপনাকে যে ভালবাসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা কখনো একই হয় না।

(৮) বর্তমান বাঙালী সমাজে বিয়ের জন্য পাত্রের ক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয় তা হল পাত্রের আয় এবং শিক্ষা। অন্যদিকে পাত্রীর ক্ষেত্রে সেটা হয়ে যায় যথাক্রমে পাত্রীর রূপ-সৌন্দর্য ও শিক্ষা।

(৯) সুখে আছি, তবু সুখ পাই না;
কেন অসুখী? তাও জানিনা।

(১০) আমি আছি, তুমি নাই;)
আবেগ আছে, বাস্তবতা নাই।

Tuesday, December 15, 2015

এলোমেলো ভাবনা (১২)

(১) পাবলিক প্লেসে কিছু বলা বা লেখার আগে এটা মনে রাখা জরুরি যে আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন সেটাই সবকিছু না, লোকে কী বুঝবে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

(২) সমাজকে নিরপেক্ষভাবে দেখার স্বচ্ছ চশমার নাম সমাজবিজ্ঞান।

(৩) অতীতকে অতীতেই রাখতে হয়, বর্তমানে টেনে আনতে হয় না।

(৪) নারীকে শুধু মায়ের জাত হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে সম্মান করুন।

(৫) ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে এমন গ্রুপ অধিকার যেমন কাম্য নয়, তেমনি যতক্ষন পর্যন্ত ব্যাক্তি অধিকার অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে, ততক্ষন পর্যন্ত ব্যাক্তি স্বাধীনতায়ও হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

(৬) ভুল মানুষের সাথে রিলেশনশিপে থাকার চেয়ে একা থাকা বেশি ভাল।

(৭) পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে এখনো আধুনিক যুগের দাস হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয়।

(৮) প্রত্যাশা নেইতো হতাশাও নেই।

(৯) দাসপ্রথা থেকে পুরুষ জাতি মুক্তি পেলেও নারীজাতি এখনও মুক্তি পায় নি।

(১০) সবাই সত্য জানতে চায় কিন্তু সত্যবাদী হতে চায় কয়জন? 

Monday, August 10, 2015

এলোমেলো ভাবনা (১১)

(১) বালিকা, ভূমিকম্পন বোঝ, হৃদয় কম্পন বোঝ না?

(২) চেনা মানুষটার ভিতরেও আরেকটা অচেনা মানুষ থাকে যাকে চাইলেও সবসময় চেনা যায় না।

(৩) নারী অধীকারের প্রতি যাদের সম্মান নাই, তাদের প্রতিও আমার কোন সম্মান নাই।

(৪) কাউকে জাজ করার আগে একটু চিন্তা করা উচিত। কেননা সব সাধুরই একটা অতীত আছে, আবার সব পাপীরই একটা ভবিষ্যৎ আছে।

(৫) কোন নির্দিষ্ট ধর্ম-বর্ণ-জাতীর বিরুদ্ধে সচেতনভাবে যুক্তিহীন বিদ্বেষ ছড়িয়ে তাদের ক্ষেপিয়ে তোলাকে 'অসুস্থচিন্তা'র চর্চা বলা যেতে পারে, 'মুক্তচিন্তা'র চর্চা না।

(৬) যে সমাজ ভিন্নতা বা বৈচিত্রতা নিতে জানে না, সে সমাজে হিটলার, মুসোলিনি জন্ম নিতে পারে, সক্রেটিস, হেগেল, ইবনে খালদুন নয়।

(৭) প্রাকৃতিক বিজ্ঞান দিয়ে সমাজ বোঝা যাবে না; সমাজ বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান লাগবে।

(৮) সাধারন মানুষেরা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠদের আনন্দ দেখে পুলকিত হয়, সমাজচিন্তাবিদরা সেখানে সংখ্যালঘুদের বেদনা দেখে চিন্তিত হয়।

(৯) জীবন মানে সবসময় নিজেকে খুঁজে বেড়ানো নয়; জীবন মানে নিজেকে তৈরি করে নেয়া।

(১০) সময়ই বলে দিবে কে ঠিক আর কে বেঠিক।

Friday, August 7, 2015

এলোমেলো ভাবনা (১০)

(১) যত বড় ব্যাখ্যা, ততো বড় মিথ্যা।

(২) ঘুঁনেধরা সমাজের পরিবর্তন চাইলে মন যোগাতে নয়, মন জাগাতে লিখতে হবে।

(৩) সাধারন মানুষেরা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠদের আনন্দ দেখে পুলকিত হয়, সমাজচিন্তাবিদরা সেখানে সংখ্যালঘুদের বেদনা দেখে চিন্তিত হয়।

(৪) ভালবাসায় মিথ্যে বলতে নাই। কেননা ভালবাসা মিথ্যাও বলে না আর কাউকে কষ্টও দেয় না। যদিও মানুষ এর দুটোই করে।

(৫) বর্তমানের আনন্দময় মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করুন, কেননা এটা সারাজীবন থাকবে না।

(৬) গতকালের কথা বাদ দিন। আজকের কথা ভাবুন।

(৭) সবাই যদি আপনাকে পছন্দ করে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি হয়তো একটা ভাঁড় অথবা আপনার নিজস্বতা বলতে আসলে কিছু নাই।

(৮) নিজের সবকিছু নিয়ন্ত্রন করার অধিকার ভালবাসার মানুষকে দিয়ে দেয়ার নাম ভালবাসা না, সেটাকে দাসত্ব বলে।

(৯) আমি তোমার ব্যাক্তিত্বের প্রেমে পড়েছি। তবে তোমার সৌন্দর্য হচ্ছে অতিরিক্ত একটা বোনাস। :P

(১০) ধর্মান্ধ মৌলবাদী আর সেক্যুলার মৌলবাদী একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। দুটোই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য উপদ্রব। কেননা দুটো গ্রুপই তাদের বিপরীত চিন্তার প্রতি প্রচন্ড অসহিঞ্চু ও স্বৈরাচারী।

Saturday, August 1, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৯)

(১) বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বা সমালোচনা হচ্ছে এটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়া আর কোন পদ্ধতিকে পাত্তা দেয় না।

(২) ব্যাক্তির কোন আচরন যতক্ষন পর্যন্ত অন্য কোন ব্যাক্তির ক্ষতির কারন না হয়, ততক্ষন পর্যন্ত ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কোন প্রয়োজনীয়তা নাই।

(৩) ভিন্নতা বা বৈচিত্রতাই সুন্দর। অসুন্দর বলতে যদি কিছু থাকে, তবে সেটা হচ্ছে হোমোজিনিটি বা অভিন্নতা।

(৪) নারীবাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হল পুরুষতন্ত্রকে হটিয়ে একটা মানবিকতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি সহ সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

(৫) সামনে এগিয়ে যাবার গোপন রহস্য হচ্ছে শুরু করা।

(৬) স্যাক্রিফাইস বা আত্বত্যাগ সবার জন্য নয়। স্যাক্রিফাইস তার জন্যই করা উচিত যে আপনার জন্য স্যাক্রিফাইস করে।

(৭) কাউকে গুরুত্ব কম দিলে তাকে হারাবেন আবার বেশি গুরুত্ব দিলে নিজে কষ্ট পাবেন।

(৮) মানুষ মিথ্যা বলতে পারে কিন্তু তার কাজ কখনো নয়।

(৯) অর্ধ সত্য সবসময়ই একটা বড় মিথ্যা।

(১০) অতীতকে পরিবর্তন করা সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা করে বর্তমান কে ধবংস করা সম্ভব।

এলোমেলো ভাবনা (৮)

(১) বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্কই টিকতে পারে না।

(২) অতীতের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে হা-হুতাশ করতে নাই। কেননা প্রতিটা ভুলই মানুষকে আরো বেশি পরিনত করে।

(৩) সমাজে কালো মানুষের অধীকার যেমন সাদা মানুষেরা নির্দিষ্ট করে দিতে পারে না তেমনি নারীর অধীকার কী হবে সেটাও পুরুষেরা ঠিক করে দিতে পারে না।

(৪) সমাজের রীতিনীতি, আইন-কানুন সমাজের প্রভাবশালী গোষ্ঠীরাই তৈরি করে। তাই সব সামাজিক রীতিনীতি সবসময় সমাজের সব সদস্যদের জন্য অসম ও ন্যায় হবে তা মনে করার কারন নাই।

(৫) একজন পুরুষ যেমন তার ইচ্ছে স্বাধীন যা যা করতে পারে, একজন নারীও তার ইচ্ছে স্বাধীন তা তা করার অধিকার রাখে।

(৬) সমাজে সাদা-কালো-বাদামী, নারী-পুরুষ সবাই মানুষ। আর মানুষ হিসেবে সবার জন্য সমাধিকার প্রযোজ্য।

(৭) সব মৌলবাদীদেরই কমন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের চেতনার দন্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল। পান থেকে চুন খসলেই এদের অনুভূতির দন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

(৮) ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কিছু নাই। কেননা ওটা এখনো আসে নি।

(৯) আমি তোমার সম্পূর্ণটাই চাই, শুধুমাত্র কোন অংশবিশেষ না।

(১০) একা থাকা মানেই যেমন একাকী না, তেমনি রিলেশনশিপে থাকা মানেও সবসময় সুখী না।

এলোমেলো ভাবনা (৭)

(১) যে সম্পর্কে মান-অভিমান থাকেনা, তাকে কোনভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বলা যায় না। বড়জোড় তাকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বলা যেতে পারে।

(২) নীরবতা ও হাসি চমৎকার দুটি জিনিস। ছোট একটা হাসির মাধ্যমে যেমন অনেক সমস্যা সমাধান করা যায় তেমনি একটু নীরবতার মাধ্যমে অনেক সমস্যা এড়ানো যায়।

(৩) ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহনের উপায় দুইটি। অন্যের ভুল দেখে শেখা আর নিজে ভুল করে শেখা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রথম পদ্ধতিটা অধিকতার যুক্তিযুক্ত হলেও বেশিরভাগ মানুষ দ্বিতীয় পদ্ধতিটাকেই কেন যেন বেশি পছন্দ করে।

(৪) তারুণ্যের ধর্মই হচ্ছে ভুল করা আর শেখা। তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

(৫) কোন কিছু কেনার আগে ভেবে দেখা উচিত যে তা না কিনলে কী ক্ষতি হবে আর কিনলে কী লাভ হবে!

(৬) অদৃশ্য ঐশ্বরিক শক্তি থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান হচ্ছে ধর্ম। অন্যদিকে চিন্তা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান হচ্ছে দর্শন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষনা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান হচ্ছে বিজ্ঞান।

(৭) ব্যাস্ততা একটা অজুহাত মাত্র। কোন কিছু করা বা না করা আসলে অগ্রাধিকারের বিষয়।

(৮) সম্মান পাওয়ার যোগ্য একমাত্র তারাই যারা অন্যকে সম্মান করে।

(৯) অদৃশ্য ভয় থেকেই কুসংস্কার সৃষ্টি ও পালিত হয়।

(১০) দুশ্চিন্তা করা সময় ও স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় অপচয়।

Sunday, May 17, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৬)

(১) কাছের মানুষদের শাস্তি দেয়ার সবচেয়ে শক্তিশালি অস্ত্র হচ্ছে অবহেলা।

(২) আপনি যত ভাল কাজই করেন না কেন, কিছু লোক আপনার সমালোচনা করবেই।

(৩) মেয়েদের বিয়ে নিয়ে তাড়াহুড়া করতে নেই। একটা খারাপ বিয়ের চেয়ে সারা জীবন একা থাকা অনেক ভাল।

(৪) কোন আদর্শই পুরোপুরি অভ্রান্ত নয়। কেননা সময়ের সাথে সাথে ভ্রান্ত/অভ্রান্তের ধারনা পরিবর্তিত হয়। তাই নির্দিষ্ট আদর্শের পরিবর্তে যখন যেটা ঠিক সেটা অনুসরন করাই যুক্তিযুক্ত।

(৫) বেশিরভাগ মানুষের আচরন হচ্ছে ভেড়ার পালের মত; কেননা এদের চিন্তা-চেতনায় নিজস্বতা নাই। ভেড়ার পালে সামনের ভেড়াটা যেদিকে যায়, অন্য ভেড়াগুলো কিছু না ভেবেই তার পিছনে পিছনে যায়।

(৬) সবচেয়ে খারাপ গনতন্ত্রও যেকোন ধরনের স্বৈরতন্ত্র থেকে ভাল। ভাল হোক বা খারাপ হোক জনগনের প্রতিনিধি জনগনকেই নির্বাচন করতে দেয়া উচিত। 

(৭) যেকোনো দক্ষতা অর্জনে অনুশীলন বা প্রাকটিসই আসল। অনুশীলন ছাড়া দক্ষতা অর্জনের স্বপ্ন দেখা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

(৮) সত্য যখন নিজের বিশ্বাসের সাথে মিলে যায়, তখন সেটা মেনে নেয়া যতোটা সহজ ঠিক ততোটাই কঠিন যখন তা নিজের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায়।

(৯) কেউ আসবে, কেউ চলে যাবে। শুধু স্মৃতিটুকু রয়ে যাবে। এটাই জীবন।

(১০) সমাজের চোখে অধীকার সচেতন মেয়েরা হচ্ছে বেয়াদব।

Thursday, April 23, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৫)

(১) আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরিবর্তে "বিয়ে" যদি হয় নারীদের জীবনের প্রধান স্বপ্ন ও লক্ষ, তাহলে আর যাই হোক নারী মুক্তি সম্ভব না।

(২) কারো প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে বসে থাকার মত বোকামী দ্বিতীয়টি আর নাই। স্বার্থপরতার এই যুগে কেউ কাউকে সাহায্য করে না; নিজের কাজ নিজেকেই করে নিতে হয়।

(৩) পূজিবাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ও অবশ্যম্ভাবিতা হচ্ছে সামাজিক অসমতা। এই অসমতাই তীব্র আকার ধারন করে একদিন এর পতন ডেকে আনবে। সামাজিক অসমতার পরিমান যত তীব্র হবে, পুঁজিবাদের পতনও ততো নিকটে আসবে।

(৪) মানুষ খুবই একটা অদ্ভুত প্রানী। সে তার নিজের আচরনে সবসময় পরার্থপরতা খুঁজে পায় কিন্ত কখনো নিজের স্বার্থপরতা দেখতে পায় না।

(৫) মানব জীবনে 'বলা' কথার চেয়ে 'না বলা' কথার পরিমানই বেশি।

(৬) ফেসবুকে কোন পোস্টে লাইক দেয়া মানে সবসময় পোস্টের বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করা নয়। লাইক দেয়া মানে স্টাটাসটা নজরে পড়েছে তা জানান দেয়া এবং লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করা।

(৭) বেনিফিট অব ডাউট কখনো সবল ও সংখ্যাগুরুদের প্রাপ্য হতে পারেনা। এটা সবসময় দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের অধিকার।

(৮) সমাজে যে কোন অস্থিরতা বা গোলমাল সৃষ্টি হলে তার প্রথম শিকার হয় নারী এবং শিশু। যদিও এইসব অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে প্রধানত দায়ী থাকে পুরুষ।

(৯) প্রত্যেক কাজেরই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তাই উপকার কখনো বিফলে যায় না। একদিন সেটা কোন না কোন ভাবে ফিরে আসবেই।

(১০) কখনো হতাশ হতে নেই। মূল্যবান কিছু নিমিষেই অর্জিত হয় না। তার পিছনে ধৈর্য, শ্রম ও সময় দিতে হয়।

Sunday, March 22, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৪)

(১) হতাশাকে কখনো প্রশ্রয় দিতে হয় না। একেবারে শিকড় সহ উপড়ে ফেলতে হয়। প্রশ্রয় পেলে হতাশা মানুষকে ধীরেধীরে সেল্ফ ডেসট্রাকশন বা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

(২) ঘন্টা প্রতি আয়ের পরিমানই নির্ধারণ করে দিবে নারী ও পুরুষের মধ্যে কে ঘরে আর কে ঘরের বাইরে কাজ করবে।

(৩) সবচেয়ে বড় হতভাগ্য হচ্ছে সেই ব্যাক্তি যাকে তার জীবনের বেশিরভাগ সময় অপছন্দের বিষয়ের সাথে কাটাতে হয়।

(৪) বাংলাদেশের মত সমাজে উচ্চ শিক্ষিত ও অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন মেয়েদের অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত ও কম যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলেদের বিয়ে করার সম্ভাবনা বেশি।

(৫) ধর্ম রক্ষা, জাতি রক্ষার নামে ব্যক্তি অধিকার হরণ, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, সমাজের জন্য মানুষ না; বরং মানুষের জন্যই সমাজ।

(৬) সবকিছুকে ফাঁকি দেয়া গেলেও নিজের বিবেককে কিন্তু কখনো ফাঁকি দেয়া যায় না।

(৭) যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে স্পর্শ করতে পারে না, তাদের জীবন-যাপনের মান উন্নত করতে পারেনা তাকে সত্যিকারের উন্নয়ন বলা যায় না।

(৮) মানুষ বেশিরভাগ প্রশ্ন করে উত্তর জানার জন্য না; বরং উত্তর দেয়ার জন্য।

(৯) মানব জীবনের ইতিহাস হচ্ছে পরিবর্তনের ইতিহাস। মানব জীবনে ধ্রুব বা অপরিবর্তিত বলতে যদি কিছু থাকে; তাহলে সেটা হচ্ছে একমাত্র 'পরিবর্তন'।

(১০) আমাদের সমাজে মেয়ে ভাল নাকি খারাপ তা মাপা হয় মেয়েদের শরীর বিষয়ক ঘটনা দিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নষ্ট হওয়ার একই কাজ ছেলে-মেয়ে উভয়ে করলেও ছেলেরা কখনো নষ্ট হয় না; নষ্ট হয় কেবল মেয়ে!

Wednesday, March 18, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৩)

(১) ব্যাক্তি জীবনে সুখী হওয়ার প্রধান বাঁধা হচ্ছে কারো প্রতি "প্রত্যাশা" আর "অধীকারের দাবী"। এ দুটো জিনিস থেকে মুক্ত হতে পারলে সুখী হওয়ার পথে আর কোন বাঁধা থাকেনা।

(২) মানুষ বড়ই অদ্ভুত। এরা কেউ কাউকে সত্যিকারভাবে বুঝতে চায় না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের সকলেই প্রত্যাশা করে যেন অন্যরা তাকে বোঝে, তার অভিমানকে গুরুত্ব দেয়।

(৩) পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে গরীবদের বঞ্চিত করা ও শাস্তি দেয়া আর ধনীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

(৪) আধুনিক যুগে প্রেম হয় শরীরে- শরীরে, ক্যারিয়ার আর রুপে, টাকা আর গায়ের রংয়ের সৌন্দর্যের সাথে।

(৫) সবার মধ্যেই বিশেষ কিছু গুণ বা সৌন্দর্যময় দিক আছে কিন্তু সেটা সবাই দেখতে পায় না।

(৬) কোন কিছু অর্জন করার পরে সেটা ধরে রাখতে পারাটাই হচ্ছে আসল অর্জন।

(৭) 'প্রেম-ভালোবাসা' এমন কোন সফটওয়্যার না যেটা চাইলেই যখন ইচ্ছা ইন্সটল বা আনইন্সটল করে নেয়া যায়।

(৮) 'প্রেম-ভালবাসা' হচ্ছে সংক্রামক ভাইরাসের মত। এতে যেকেউ যেকোন সময় আক্রান্ত হতে পারে।

(৯) আবেগ মানুষকে সাহসী করে, ভয় ডর দুর করে দেয়। প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশি ভাবতে দেয় না।

(১০) জ্ঞান, বুদ্ধি ও নৈতিকতায় উন্নত মানুষের জন্য আইন কানুন বা ধর্মের প্রয়োজনীয়তা নাই। কেননা সে জানে, তার কী করা উচিত আর কী করা উচিত না।

Wednesday, February 18, 2015

এলোমেলো ভাবনা (২)

(১)বাঙালি ইতিহাস সচেতন জাতি না। তা না হলে তারা পাকিস্তানিদের বর্বরতার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও পাহাড়ি আদিবাসীদের সাথে সেই একই রকম বর্বর আচরন করতে পারতো না।

(২)বাঙালিদের মধ্যে যে ইতিহাস সচেতনতা নাই তার প্রমান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোন খেলা হলেই দেখা যায়। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন, শোষণ ও ধর্ষণের ইতিহাস সচেতনতার ন্যূনতম  অংশ অবশিষ্ট থাকলে ক্রিকেট খেলায়ও কেউ পাকিস্তানের সমর্থন    করতে পারত না।

(৩)দুর্ঘটনা ও অসতর্কতা এক বিষয় না। দুর্ঘটনা দু-একবার ঘটতে পারে কিন্তু কোন ঘটনা যখন বারবার ঘটে, সেটাকে দুর্ঘটনা না বলে অসতর্কতার ফলাফল বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

(৪)একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের কর্তব্য হচ্ছে, সে সব বিষয় সম্পর্কে কিছু কিছু এবং কিছু বিষয় সম্পর্কে সবকিছু জানবে।

(৫) বাঙালি সংস্কৃতি কোন মৌলিক বা অভিন্ন সংস্কৃতি নয়। এ সমাজ যেমন বহু ভাগে বিভক্ত, এ সংস্কৃতিও তেমনি বহু রঙে রাঙানো।

(৬)চিন্তার সংকীর্ণতা দুর করতে আড্ডা বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার বিকল্প নাই। তাই আড্ডায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

(৭)মুখে শান্তিনেকেতন আর অন্তরে পেন্টাগন রেখে পাহাড়ে যতই "শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের" সাইনবোর্ড টাঙানো হোক না কেন, তাতে পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তি আসবেনা।

(৮) নারী নির্যাতনকে প্রতিরোধ করতে হলে নারীকে হয়ে উঠতে হবে পুরুষের সমকক্ষ - ঘরে ও বাইরে, মেধা ও মননে, এবং মানসিক ও শারীরিক শক্তিতে।

(৯)মুখের কথা বোঝ, মনের কথা বোঝ না?

(১০)স্পোর্টস বা খেলাধুলা শুধুমাত্র বিনোদনের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, রাজনীতি, এবং অর্থনীতির সাথেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

Wednesday, December 31, 2014

এলোমেলো ভাবনা (১)

(১) মানবজীবনে ব্যর্থতা বা সফলতা বলতে আসলে আলাদা কোন চাপ্টার বা অধ্যয় নাই; যা আছে তা হল অভিজ্ঞতা অর্জন। আর অভিজ্ঞতাই হচ্ছে মানবজীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক।

(২) সফলতার কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থান নাই; এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।

(৩) ব্যাক্তি জীবনে যথাযথ চেষ্টা করার পরও কোন কিছু না পেলে হতাশ হওয়া বা মন খারাপ করা উচিৎ না।

(৪) স্বপ্ন থেকেই বাস্তবতার জন্ম হয়। কাজেই, স্বপ্ন দেখতে থাকো। এমন অনেক কিছু হবে, যা কেউ ভাবেনি আগে।

(৫) সংখ্যালঘুর বেদনা বুঝতে যদি সংখ্যালঘু হওয়া লাগে, তবে মানুষ হিসেবে দাবী করা কেন?

(৬) অতীতকে বর্তমানে খুঁজতে হয় না। কারন তা বর্তমানকে কেবল আরো জটিল ও দুঃখময় করে তোলে।

(৭) সবকিছুকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে হবে। সেটা যত রুঢ় বা কষ্টকর হোক না কেন। কারন যেটা ঘটে গেছে, তাকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবেনা। আর যেটা অনিবার্য, সেটাকে বাধা দেয়ার চেস্টা হাস্যকর।

(৮) মেধা নয়; পরিশ্রমই সফল হওয়ার জন্য বেশি জরুরি।

(৯) না জেনে ভুল করার চেয়ে জেনে ভুল করা ভাল। কারন তাতে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অন্তত আগাম ধারনা থাকে।

(১০) শুধু নারী বা পুরুষ নয়; হিন্দু বা মুসলমান নয়; কিংবা বাঙালি বা চাকমাও নয়; মানুষ হতে হবে।

Friday, December 26, 2014

আত্ববিশ্বাস কিভাবে তৈরি হয়?

আত্ববিশ্বাস দুই ভাবে তৈরি হয় । বেশি জানা থেকে আর কম জানা থেকে। অর্থাৎ জ্ঞান যেমন আত্ববিশ্বাস তৈরি করতে পারে, তেমনি অজ্ঞতা থেকেও আত্ববিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

কাজেই, আত্ববিশ্বাস থাকলেই সবসময় আত্বতুষ্টিতে ভোগার কিছু নাই। বরং আত্ববিশ্বাস কে যাচাই করে নিতে হবে সেটা কোথা থেকে তৈরি হয়েছে।

Wednesday, November 26, 2014

অতীত সোনালী হলে বর্তমান কী?

If old is gold,  what will be the present?  আমাদের অনেকের কাছেই অতীত হচ্ছে এক সোনালী অধ্যয়।  আমরা সবসময় অতীতের সুখস্মৃতি রোমান্থন করতে পছন্দ করি। বর্তমান নিয়ে শত অভিযোগ অথচ অতীত নিয়ে কত উচ্ছলতা!  আহা! যদি আবার সেই অতীতে ফিরে যেতে পারতাম!

অতীত নিয়ে এই মোহগ্রস্ততা কেন? অতীতের জীবন অনেক সুন্দর ছিল তাই না বর্তমানের প্রাপ্তি নিয়ে হতাশা? নাকি পূজিবাদি সমাজের যান্ত্রিক সভ্যতার চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলা?

অতীত আসলে কী? অতীতের কি কোন তাৎপর্য আছে? আমার কাছে অতীত কিছু অভিজ্ঞতার সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নয়।