দীর্ঘ ১৩০ দিন পর আজ বাসায় আসলাম। বাসায় ঢুকেতেই বাবার সাথে দেখা। সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেইক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেই বাবার প্রশ্ন..."বলোতো, মোসাফাহার (হ্যান্ডশেইক) দোয়া কী?" প্রশ্ন শুনে প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিলাম। মুখে সবজান্তার হাসি ফুটিয়ে তিন আলিফ টান দিয়ে বললাম, এটাতো দৈনন্দিন আমলের বিষয়, এটা কি কেউ ভোলে? ;) যদিও দোয়াটা তৎক্ষণাৎ মনে ছিল না কিন্তু ইন দ্য মিন টাইম মাথায় গুগলিং করতেই মনে পড়ে গেল। বললাম, 'ইয়াগফিরুল্লাহি লানা ওয়ালাকুম'। ছেলের এহেন সফলতায় বাবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ;)
Saturday, May 14, 2016
Tuesday, March 8, 2016
নারী দিBoss!
নারী-পুরুষের বৈষম্য বা অসমতার প্রধান কারন পুরুষতান্ত্রিকতা। যুগযুগ ধরে লালিত-পালিত নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিনাশ ছাড়া নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব না।
আমাদের দেশের কেউ কেউ আবার মনে করেন পুরুষতান্ত্রিকতার বিপক্ষে কথা বলা মানে নারীতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। মনে রাখতে হবে, পুরুষতান্ত্রিকতার বিনাশ চাওয়া মানে তা কোনভাবেই নারীতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চাওয়া নয়। নারীতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে এখনকার নারীদের মত আবার পুরুষদের তাদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হবে। তাই, নারীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কোন সমাধান না।
আসলে নারীতন্ত্র বা পুরুষতন্ত্র নয়, সত্যিকার সমাধান চাইলে মানুষতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। এমন মানুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে সমাজে নারী-পুরুষের অধিকারের মধ্যে কোন ভেদাভেদ, বৈষম্য বা পার্থক্য থাকবেনা। সমাজের সাধারন সদস্য হিসেবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন করার অধিকার ভোগ করবে।
আজ ৮ই মার্চ। আন্তর্জাতিক নারী দিBoss! সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।
Thursday, February 25, 2016
রাজনীতিতে 'ডানপন্থী/বামপন্থী' এর ধারনা কোথা থেকে এলো?
রাজনৈতিক আলোচনায় 'ডানপন্থী' বা 'বামপন্থী' শব্দ দুটি খুবই আলোচিত বিষয়। আর এই প্রত্যয় দুটি কোথা থেকে ও কিভাবে আসলো তার এক মজার ইতিহাস রয়েছে।
ডানপন্থী' বা 'বামপন্থী' প্রত্যয় দুটির উৎপত্তি ফরাসি বিপ্লবের সময় (১৭৮৯-১৭৯৯)। তৎকালীন সময়ে ন্যাশনাল এসেম্বলিতে ফরাসী রাজার সিংহাসন/চেয়ারের বামপাশে যারা বসতো তাদেরকে বামপন্থী আর যারা ডানপাশে বসতো তাদেরকে ডানপন্থী বলে অভিহিত করা হত।
বামপন্থীরা মূলত ফরাসি রাজতন্ত্রের বিরোধী এবং ফরাসি রিপাবলিক ও আসন্ন বিপ্লবের পক্ষে ছিল। অন্যদিকে ডানপন্থীরা বিদ্যমান ফরাসি রাজতন্ত্রের পক্ষে ছিল।
বর্তমানে, ডানপন্থী বলতে বোঝায় যারা রক্ষনশীল, বিদ্যমান পুঁজিবাদী সমাজ ব্যাবস্থার পক্ষে ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির পক্ষে কথা বলে। এছাড়া ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোকেও ডানপন্থী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
অন্যদিকে, বামপন্থী বলতে বোঝায় যারা প্রগতিশীল, বিদ্যমান পুঁজিবাদী সমাজ ব্যাবস্থার পরিবর্তন বা আমূল সংস্কারের পক্ষে ও সামাজিক সমতার কথা বলে।
Sunday, February 21, 2016
একুশের চেতনা কোথায়?
বাঙালি ইতিহাস সচেতন জাতি না। ইতিহাস সচেতন হলে অন্তত তারা আদিবাসীদের মাতৃভাষাকে স্বীকৃতি দিতে কার্পন্য করতো না।
যারা মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য জীবন উৎসর্গ করল, অথচ তারাই আবার স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশী অবাঙালি আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাটুকু পর্যন্ত করতে পারলোনা।
লজ্জা! এ আমাদের জাতীয় লজ্জা!
এলোমেলো ভাবনা (১৪)
(১) ম্যাচুরিটি বয়সের সাথে নয়; অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত। যার অভিজ্ঞতা যত বেশি, সে ততোবেশি ম্যাচিউরড।
(২) চিন্তা-ভাবনা আর যুক্তির আলোকে যেটা বলা হয় তাকে দর্শন বলা যেতে পারে; সমাজবিজ্ঞান না। সমাজবিজ্ঞান হতে হলে তার পিছনে অবশ্যই ডেটা বা তথ্য-প্রমান থাকতে হবে।
(৩) ভিন্নমতের সাথে ভিন্নমত দিয়েই লড়তে হয়, চাপাতি বা পিস্তল দিয়ে নয়।
(৪) আগেকার বাঙালি সমাজে স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের কাছে ছিলেন একচ্ছত্রভাবে গুরু এবং শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু উপমহাদেশে ইংরেজরা শাসনক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে তারা বন্ধু ও প্রেমিকে পরিনত হতে শুরু করেন।
(৫) যে যা না, তা হওয়ার ভান করাটা হাস্যকর।
(৬) পাক-ভারত উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা থাকলেও পতিদাহ প্রথা কেন ছিল না?
(৭) মার্ক্সবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সবখানে অর্থনীতি দেখে এবং অর্থনীতি পরিবর্তন হলে দুনিয়ার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করে।
কিন্তু মানুষের জীবনে অর্থনীতি বড় ভূমিকা রাখলেও এটাই একমাত্র শেষকথা না। ব্যক্তি মানুষের জীবনে আবেগ-অনুভূতি, সংস্কৃতি-ইডিওলজি মোটেই কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
(৮) পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষরা নারীদের টাকা, গায়ের জোর এবং ধর্মের নামে বন্দী করে রাখে। কাজেই এই তিন ক্ষেত্রে নারীরা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে না পারলে তাদের মুক্তি নাই।
(৯) সমাজবিজ্ঞান আর সমাজচিন্তা আমার কাছে এক নয়।
সমাজবিজ্ঞান হতে হলে অবশ্যই তার পিছনে ডেটা বা তথ্য-প্রমান থাকতে হবে। আর সমাজচিন্তা হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। এটাকে সমাজবিজ্ঞান গবেষণা প্রকল্পের হাইপোথিসিস বা অনুমান বলা যেতে পারে।
(১০) ঘরবউ থাকা যদি দোষের না হয়; তাহলে ঘরজামাই থাকা কেন দোষের হবে?
Monday, February 8, 2016
বিবাহবিচ্ছেদের সাথে নারীর ক্ষমতায়নের কোন সম্পর্ক আছে কি?
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় গত এক বছরে ৫৮৩টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। আর এর ৯০ শতাংশই হয়েছে নারীদের উদ্যোগে অর্থাৎ নারীরাই তাঁদের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। (সূত্র: প্রথম আলো)
এছাড়া, গত ২০১৪ সালে শুধু ঢাকায় ৬০ হাজার ডিভোর্স বা নারী কর্তৃক বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে (সূত্র: সমকাল)। পুরো দেশকে হিসেবে আনলে এই সংখা যে বিশাল আকার ধারন করবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নাই।
বাংলাদেশে এখন নারী কর্তৃক বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি এবং এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
একসময়ে এদেশের অনেকে পশ্চিমা বিশ্বের পারিবারিক বন্ধন হালকা বা ডিভোর্সি পরিবারের সংখ্যা বেশি বলে পশ্চিমাদের চেয়ে আমাদের সমাজ অনেক ভাল আছে বলে গর্ব করতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশের সমাজও এখন সেদিকে যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে পারিবারিক বন্ধন এখনো খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়, সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে কেন? আর বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়ে যাওয়া আসলে কী নির্দেশ করে?
ডিভোর্স লেটারে নারীরা তাঁদের স্বামীদের তালাক দেওয়ার কারণ হিসেবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক, স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, মাদকাসক্তি ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পিছনে কি শুধুই এসব কারন জড়িত নাকি এর পিছনে আরো কারন রয়েছে?
পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিবাহিত জীবনে ৮৭ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার হন। এখানে নির্যাতন বলতে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, নারী নির্যাতন কি শুধুমাত্র সাম্প্রতিক সময়ে হচ্ছে? অতীতে কি নারী নির্যাতন হতো না? কেউ কেউ বলেন, অতীতে নারী নির্যাতন হলেও তার পরিমান সাম্প্রতিক সময়ের মত এত বেশি ছিল না। নারীবাদীরা অবশ্য বলেন, নারী নির্যাতন এখনকার মত আগেও ছিল। পার্থক্য হচ্ছে আগে এসব নির্যাতনের কথা রিপোর্টিং হতো না কিন্তু এখন বিভিন্ন এনজিও এবং গনমাধ্যমের কল্যানে সেটা প্রকাশিত হচ্ছে।
এবার আমার আসল কথায় আসি, মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিবাহবিচ্ছেদের সাথে নারীর ক্ষমতায়নের একটা ইন্টারেস্টিং সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবীর সকল দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মত দরিদ্র এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন যত বাড়ছে, সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা তত বাড়ছে।
এর কারন হিসেবে বলা যায়, নারী শিক্ষা বিস্তার, অর্থনৈতিক কাজে নারীর অংশগ্রহণের ফলে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। ফলে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে নারী এখন স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। আগের মত স্বামীর/শশুর বাড়ির নির্যাতন স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছেনা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় নারী নিজের জীবন নিজের মত করে নতুনভাবে শুরু করার স্বপ্ন দেখতে পারছে।
Thursday, January 28, 2016
সমাজবিজ্ঞানী যখন রোমান্টিক!
পেশায় সমজাবিজ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও আমি রোমান্টিক বা কল্পনাবিলাসী হতেই পছন্দ করি। রোমান্টিকতার সংজ্ঞা যেটাকে যুক্তিবাদী চিন্তার বিপরীত মনে করা হয় তার সমালোচনায় আমার আগ্রহ নাই। তাতে কী? আপনি রোমান্টিক, আপনি যুক্তিবাদী না - কথাটি শুনতে রূঢ় হলেও তা কিন্তু আপনি সহজেই উপেক্ষা করতে পারবেন না।
আমি যে রোমান্টিকতার কথা বলছি তা হল প্রকৃতির সুর শ্রবণ। প্রকৃতিতে এমন কিছু সুর রয়েছে যেটা পাখির ডাকের মত স্পষ্ট। কিন্তু আপনি যখন প্রকৃতির অস্ফুট সুরেলা ধ্বনি শুনতে পান তখন কী ঘটে? আমার কাছে মনে হয়, একমাত্র কবিতাই কেবল তা ধরতে পারে। অন্য কথায়, কবিতা হচ্ছে প্রকৃতির সুরের প্রতিচ্ছবি।
Even being a sociologist by profession I love to romanticize! Not interested in critically examining the connotation of romanticism, which is opposed to rational thinking. So what? You are romantic, you are not rational - sounds harsh but not something you immediately reject.
The romanticism I am talking about is about listening to tunes of nature, there are some tunes which are explicit, for example the chirping of a bird. But what happens when you listen to a tune embedded in nature but not audible? To my mind poetry is there to capture that tune, in other words poetry is synonym for the tune of nature!
মূল লেখা: মনিরুল ইসলাম স্যার, চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিরোনাম ও ভাবানুবাদে: স্যারের গুণমুগ্ধ এক ছাত্র ;)
Monday, January 25, 2016
সর্বকালের সেরা বিশটি প্রভাবশালী একাডেমিক বইয়ের তালিকা!
সম্প্রতি ব্রিটেনের "বুকসেলার এসোসিয়েশান' ও "দি একাডেমিক বুক অব দ্য ফিউচার প্রজেক্ট" যৌথভাবে বিজ্ঞ একাডেমিশিয়ান, লাইব্রেরিয়ান ও প্রকাশকদের মধ্য থেকে জরিপ করে সর্বকালের সেরা বিশটি প্রভাবশালী একাডেমিক বইয়ের তালিকা তৈরি করে। বইগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হল।
1. A Brief History of Time by Stephen Hawkin
2. A Vindication of the Rights of Woman by Mary Wollstonecraft
3. Critique of Pure Reason by Immanuel Kant
4. Nineteen Eighty-Four by George Orwell
5. On the Origin of Species by Charles Darwin
6. Orientalism by Edward Said
7. Silent Spring by Rachel Carson
8. The Communist Manifesto by Karl Marx and Friedrich Engels
9. The Complete Works of William Shakespeare
10. The Female Eunuch by Germaine Greer
11. The Making of the English Working Class by EP Thompson
12. The Meaning of Relativity by Albert Einstein
13. The Naked Ape by Desmond Morris
14. The Prince by Niccolò Machiavelli
15. The Republic by Plato
16. The Rights of Man by Thomas Paine
17. The Second Sex by Simone de Beauvoir
18. The Uses of Literacy by Richard Hoggart
19. The Wealth of Nations by Adam Smith
20. Ways of Seeing by John Berger
তো, এই বইগুলোর মধ্যে কে কয়টা পড়েছেন? আমি বিশটার মধ্যে মাত্র আটটা পড়েছি। যদিও তার আবার সবগুলো ভাল করে বুঝিও নাই। :(
বিজ্ঞানই কি মানবসভ্যতার সর্বনাশের কারণ হবে?
বিজ্ঞানের একটা ইতিহাস রয়েছে। আর এই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ কেননা মানব সমাজের বিভিন্ন যুগ বিজ্ঞানের আবির্ভাবকে ভাল চোখে দেখেনি। বিশেষ করে মধ্যযুগে যখন প্রকৃতি, সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার সাথে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বৈপরীত্য বা বিরোধ দেখা দিচ্ছিল তখন ইউরোপের ধর্মীয় মৌলবাদ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।
আলোকপ্রাপ্তির যুগ বলা হয় সেই সময়কে যখন বিজ্ঞান প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু তারপর বিজ্ঞানের কী হল?
আসলে যখন থেকে মানব সমাজ প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানের পরিবর্তে তাকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা শুরু করলো তখন থেকেই মূলত সব সমস্যার উৎপত্তি।
প্রফেসর হকিং তাই আবারো আমাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবনধারা উন্নতি করতে আমাদের তাড়াহুড়া মানব সভ্যতার সর্বনাশের কারণ হতে পারে। কিন্তু তার এই সতর্কবার্তা কি মানবসভ্যতার নিয়ন্ত্রণকারী মহাদেশীয় মোড়লদের কানে পৌছাবে?
Science has a history. This history is eventful because different periods of human society was not sympathetic to its smooth emergence, particularly the European medieval period when religious orthodoxy posed hindrances to it when new scientific ideas was conflicting with religious interpretation of nature, politics or society.
Enlightenment is considered as the time when science emerged quite vigorously; but what happened with science afterwards?
Through it human society sought to subjugate the nature instead of pursuing coexistence, there started the main problem.
Professor Hawking again reminded," ...that our rush to understand and improve life through science and technology could be humanity’s undoing". Does this warning reach those who now determine the human fate in different continents?
মূল লেখা: মনিরুল ইসলাম স্যার, চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শিরোনাম ও ভাবানুবাদে: স্যারের গুণমুগ্ধ এক ছাত্র। ;)
Tuesday, January 19, 2016
পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী অধিবাসীরা আদিবাসী নাকি উপজাতি?
জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত আলোচনার পরেও 'আদিবাসি' সম্পর্কে একক কোন সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয় নাই। তবে 'আইএলও' 'উপজাতি' ও 'আদিবাসি'র একটা সংজ্ঞা দেয়। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী উপজাতি তারাই:
১। যারা নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রথাগত জীবন যাপন করে।
২। যাদের সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা মূল জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা।
৩। যাদের নিজস্ব সামাজিক প্রথা, প্রথিষ্ঠান ও আইন আছে।
আর আদিবাসীদের ক্ষেত্রে উপরোক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্য ছাড়াও আরো একটি বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়, তা হল:
৪। "কোন এলাকা অন্য কারো দ্বারা দখলকৃত হওয়ার আগে বা ঐ এলাকায় অন্য কারো আগমনের আগ পর্যন্ত (প্রাক ঔপনিবেশিক) যাদের ঐ এলাকায় বসবাসের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে।"
পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী অধিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রথম তিনটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিতর্ক নেই। এখন চতুর্থ বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
পার্বত্য চট্রগ্রামে কোন জাতিগোষ্ঠী বসবাসের জন্য আগে এসেছিল সে ঐতিহাসিক বিতর্কে আমি যাবনা। আমি শুধু ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচালিত কিছু আদমশুমারি রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করব।
১৮৭২ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার মধ্যে পাহাড়ী বা আদিবাসি ছিল ৯৮% ও বাঙালি ছিল মাত্র ২%।
১৯০১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে আদিবাসি জনসংখ্যা ছিল ৯৩% ও বাঙালি ছিল মাত্র ৭%।
১৯৫১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে আদিবাসি জনসংখ্যা ছিল ৯১% ও বাঙালি ছিল মাত্র ৯%।
এর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাঙালি সেটেলমেন্ট প্রোগ্রামের কারনে পার্বত্য চট্রগ্রামে বাঙালিদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।
তাই ১৯৮১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, পার্বত্য চট্রগ্রামে আদিবাসি জনসংখ্যার পরিমান দাড়ায় ৫৯% ও বাঙালি ৪১%।
এরপর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে আদিবাসি জনসংখ্যার পরিমান দাড়ায় ৪৮% ও বাঙালি ৫২%।
তো, কী বোঝা গেল?
আসল কথা হচ্ছে, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নেয়া সেটেলমেন্ট প্রোগ্রাম ও পরবর্তিতে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীতির কারনে এভাবেই দিন দিন পাহাড়ীরা তাদের পাহাড়ে সংখ্যালঘুতে পরিনত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একসময় অণুবীক্ষণযন্ত্র যন্ত্র দিয়েও দু-চারটা পাহাড়ী খুঁজে পেতে বেগ হবে।
