Wednesday, March 18, 2015

এলোমেলো ভাবনা (৩)

(১) ব্যাক্তি জীবনে সুখী হওয়ার প্রধান বাঁধা হচ্ছে কারো প্রতি "প্রত্যাশা" আর "অধীকারের দাবী"। এ দুটো জিনিস থেকে মুক্ত হতে পারলে সুখী হওয়ার পথে আর কোন বাঁধা থাকেনা।

(২) মানুষ বড়ই অদ্ভুত। এরা কেউ কাউকে সত্যিকারভাবে বুঝতে চায় না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের সকলেই প্রত্যাশা করে যেন অন্যরা তাকে বোঝে, তার অভিমানকে গুরুত্ব দেয়।

(৩) পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কাজই হচ্ছে গরীবদের বঞ্চিত করা ও শাস্তি দেয়া আর ধনীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

(৪) আধুনিক যুগে প্রেম হয় শরীরে- শরীরে, ক্যারিয়ার আর রুপে, টাকা আর গায়ের রংয়ের সৌন্দর্যের সাথে।

(৫) সবার মধ্যেই বিশেষ কিছু গুণ বা সৌন্দর্যময় দিক আছে কিন্তু সেটা সবাই দেখতে পায় না।

(৬) কোন কিছু অর্জন করার পরে সেটা ধরে রাখতে পারাটাই হচ্ছে আসল অর্জন।

(৭) 'প্রেম-ভালোবাসা' এমন কোন সফটওয়্যার না যেটা চাইলেই যখন ইচ্ছা ইন্সটল বা আনইন্সটল করে নেয়া যায়।

(৮) 'প্রেম-ভালবাসা' হচ্ছে সংক্রামক ভাইরাসের মত। এতে যেকেউ যেকোন সময় আক্রান্ত হতে পারে।

(৯) আবেগ মানুষকে সাহসী করে, ভয় ডর দুর করে দেয়। প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশি ভাবতে দেয় না।

(১০) জ্ঞান, বুদ্ধি ও নৈতিকতায় উন্নত মানুষের জন্য আইন কানুন বা ধর্মের প্রয়োজনীয়তা নাই। কেননা সে জানে, তার কী করা উচিত আর কী করা উচিত না।

Wednesday, March 11, 2015

~ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কে ঘরে আর কে ঘরের বাইরে কাজ করবে? ~

ঘন্টা প্রতি আয়ের পরিমানই নির্ধারণ করে দিবে নারী ও পুরুষের মধ্যে কে ঘরে আর কে ঘরের বাইরে কাজ করবে।

অর্থাৎ নারী যদি পুরুষের চেয়ে বেশি আয় করে, তাহলে নারী ঘরের বাইরে চাকরি বা কাজ করবে আর পুরুষ ঘরে থেকে শিশু পালন, রান্নাবান্না ও ঘরের কাজ করবে।

অন্যদিকে, নারী-পুরুষ দুজনের আয় সমান হলে অথবা উভয়ে চাইলে দুজনই বাইরে কাজ করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়কেই ঘরের কাজ শেয়ার করে করতে হবে।

Saturday, March 7, 2015

~ সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্টের মধ্যে পার্থক্য কী? ~

সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট দুজনই মানাসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। এদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, সাইকিয়াট্রিস্ট হতে হলে তাকে অবশ্যই মেডিকেল ডিগ্রি নিতে হয় অর্থাৎ ডাক্তার হতে হয়। আর সাকোলজিস্ট হতে হলে মেডিকেল ডিগ্রি নিতে হয় না, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজি সাবজেক্টে অনার্স/মাস্টার্স ডিগ্রি নিলেই হয়।

আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, সাইকিয়াট্রিস্ট ঔষধ প্রেসক্রাইব করতে পারবে কিন্তু সাইকোলজিস্টের ঔষধ প্রেসক্রাইব করার অনুমতি নাই। তবে সে কাউন্সেলিং সেবা দিতে পারবে।

Thursday, February 26, 2015

সমাজের জন্য মানুষ নাকি মানুষের জন্য সমাজ?

সামাজিক প্রথা, নিয়ম-কানুন বা রীতিনীতি খারাপ না। তবে কোন প্রথা বা নিয়ম-কানুন যদি মানুষের অধিকার হরণ করে বা কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে নির্যাতন ও শোষনের সুযোগ তৈরি করে দেয়, তাহলে সেই নিয়ম-কানুনকে ঝেটিয়ে বিদায় করা উচিৎ।

ধর্ম রক্ষা, জাতি রক্ষার নামে ব্যক্তি অধিকার হরণ, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, সমাজের জন্য মানুষ না; বরং মানুষের জন্যই সমাজ।

Monday, February 23, 2015

অমর্ত্য সেনের উন্মুক্ত বক্তৃতা: অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক প্রগতি

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন আজ বেলা চারটায় ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে "অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক প্রগতি" শিরোনামে একটি উন্মুক্ত বক্তৃতা করেন। তার এই বক্তৃতা শুনে যা বুঝলাম তা নিচে খুবই সংক্ষেপে আমার ভাষায় দিলাম।
যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে স্পর্শ করতে পারে না, তাদের জীবন-যাপনের
মান উন্নত করতে পারেনা তাকে সত্যিকারের
উন্নয়ন বলা যায় না।
মানবিক প্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটা অসম্পূর্ণ ধারনা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবিক প্রগতি অর্জন অর্থাৎ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক জীবন মানের উন্নয়ন।
শিক্ষা, স্বাস্থসেবা ও জেন্ডার সমতা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানিবক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পৃথিবীর কোন দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থসেবার উন্নয়ন রাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও ভুমিকা ছাড়া শুধুমাত্র বাণিজ্য বা বেসিরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত হয় নি।
কাজেই, রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব হচ্ছে সকল জনগনের শিক্ষা ও স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করা। একমাত্র শিক্ষিত ও স্বাস্থবান নাগরিকগনের পক্ষেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Wednesday, February 18, 2015

এলোমেলো ভাবনা (২)

(১)বাঙালি ইতিহাস সচেতন জাতি না। তা না হলে তারা পাকিস্তানিদের বর্বরতার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করার পরেও পাহাড়ি আদিবাসীদের সাথে সেই একই রকম বর্বর আচরন করতে পারতো না।

(২)বাঙালিদের মধ্যে যে ইতিহাস সচেতনতা নাই তার প্রমান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোন খেলা হলেই দেখা যায়। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের অত্যাচার, অবিচার, নিপীড়ন, শোষণ ও ধর্ষণের ইতিহাস সচেতনতার ন্যূনতম  অংশ অবশিষ্ট থাকলে ক্রিকেট খেলায়ও কেউ পাকিস্তানের সমর্থন    করতে পারত না।

(৩)দুর্ঘটনা ও অসতর্কতা এক বিষয় না। দুর্ঘটনা দু-একবার ঘটতে পারে কিন্তু কোন ঘটনা যখন বারবার ঘটে, সেটাকে দুর্ঘটনা না বলে অসতর্কতার ফলাফল বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

(৪)একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের কর্তব্য হচ্ছে, সে সব বিষয় সম্পর্কে কিছু কিছু এবং কিছু বিষয় সম্পর্কে সবকিছু জানবে।

(৫) বাঙালি সংস্কৃতি কোন মৌলিক বা অভিন্ন সংস্কৃতি নয়। এ সমাজ যেমন বহু ভাগে বিভক্ত, এ সংস্কৃতিও তেমনি বহু রঙে রাঙানো।

(৬)চিন্তার সংকীর্ণতা দুর করতে আড্ডা বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার বিকল্প নাই। তাই আড্ডায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

(৭)মুখে শান্তিনেকেতন আর অন্তরে পেন্টাগন রেখে পাহাড়ে যতই "শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের" সাইনবোর্ড টাঙানো হোক না কেন, তাতে পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তি আসবেনা।

(৮) নারী নির্যাতনকে প্রতিরোধ করতে হলে নারীকে হয়ে উঠতে হবে পুরুষের সমকক্ষ - ঘরে ও বাইরে, মেধা ও মননে, এবং মানসিক ও শারীরিক শক্তিতে।

(৯)মুখের কথা বোঝ, মনের কথা বোঝ না?

(১০)স্পোর্টস বা খেলাধুলা শুধুমাত্র বিনোদনের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, রাজনীতি, এবং অর্থনীতির সাথেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

Thursday, January 29, 2015

খেলাধুলা কি শুধুই বিনোদন?

আধুনিক যুগে স্পোর্টস বা খেলাধুলা এখন আর শুধুমাত্র বিনোদনের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, রাজনীতি, এবং অর্থনীতির সাথেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

খেলা ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন টাকা কামিয়ে নেয়ার হাতিয়ার তেমনি ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার সহজ উপায়।

খেলাধুলার প্রতি জনগনের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা সাধারন জনগনের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীও খেলাধুলার প্রতি জনগনের আবেগকে ব্যাবহার করে জনগনকে তাদের অধীকার ও দাবী-দাওয়া থেকে ভুলিয়ে রাখে। জনগনকে খেলাধুলার কাল্পনিক জয়-পরাজয়ের আবেগের মধ্যে নেশাগ্রস্ত করে রেখে ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।

বাঙালি সংস্কৃতি কি অখন্ড বা অভিন্ন?

বাঙালি সংস্কৃতি যে অখন্ড বা অভিন্ন নয় সেটা বুঝতে হলে আমাদের কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন, রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে চিহ্নিত করলে এই সমাজকে এখন প্রায় দু ভাগে ভাগ করা যায়- পশ্চিমবংগ ও বাংলাদেশ। ধর্মের কথা তুললেও তা দ্বিধা বিভক্ত - প্রধানত হিন্দু আর মুসলিম সমাজ।

এখানেই এই দ্বিধা বিভক্তির শেষ নয়, একই ধর্মের মধ্যেই রয়েছে নানা বিভেদের দেয়াল। যেমন, উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ আর নিম্ন বর্ণের হিন্দু সমাজ মোটেই এক নয়, দেবদেবীরর নাম এক হওয়া সত্ত্বেও।

বস্তুত, ধর্মমতের সামান্য পার্থক্যের কারনেও সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে, ব্যক্তির সংগে ব্যক্তির ব্যাপক পার্থক্য দেখা দিতে পারে। একজন অন্য একজনের হাতে না-ও খেতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে বাঙালির নাম উজ্জল রঙে এঁকে দিয়েছিলেন। কিন্তু মুসলমান সমাজ দীর্ঘদিন তাঁকে আপন বলে মেনে নেয়নি। ধর্মের ধোঁয়াশা সূর্যের মত চোখ-ধাঁধানো প্রতিভাকে পর্যন্ত দূরে ঠেকিয়ে রেখেছিল।

ধর্ম এবং বর্ণের মত বাংলার গ্রামীন সমাজ এবং শহরের নাগরিক সমাজের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। এছাড়া, বাঙলার বিভিন্ন অঞ্চলের  উপভাষাগত ব্যবধানও কম নয়। মোট কথা, বাঙালি সমাজ বললে কোন অভিন্ন সমাজ বোঝায় না।

গ্লোবাল নর্থ ও গ্লোবাল সাউথ কী?

পৃথিবীকে নর্থ ও সাউথ দুই ভাগে ভাগ করা হয় মূলত সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বৈশিষ্ট্যর উপর ভিত্তি করে। গ্লোবাল নর্থ হচ্ছে নর্থ আমেরিকা, ওয়েস্টার্ন ইউরোপ, এবং ইস্ট এশিয়ার উন্নত দেশগুলো। অপরদিকে গ্লোবাল সাউথ হচ্ছে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, উন্নয়নশীল দক্ষিন এশিয়া এবং মিডল ইস্ট।

নর্থকে সাধারনত উন্নত বিশ্ব ও সাউথকে অনুন্নত বিশ্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Saturday, January 3, 2015

সংস্কৃতি বলতে কি শুধু নাচ-গানকেই বোঝায়?

বাঙালি "সংস্কৃতি" বলতে শুধু নাচ-গানকে বোঝে। নৃত্য ও গানবাজনা যে সংস্কৃতির দুটো উপাদান মাত্র এবং এর বাইরেও যে সংস্কৃতির অন্যান্য হাজারো উপাদান আছে, তা তারা বুঝতে চায় না।

সংস্কৃতি শুধুমাত্র নাচ ও গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। সংস্কৃতি একটা টোটাল ওয়ে অব লাইফ বা জীবনের একটা সামগ্রিক রূপ। আর তাই, শিল্প-সাহিত্য, ধর্ম, বিজ্ঞান, পোশাক-আশাক, খাদ্যাভ্যাস, চিন্তা-ভাবনা সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।