Showing posts with label ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts

Tuesday, October 6, 2015

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও ধর্ম কেন টিকে আছে?

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। মানুষ এই যুগে সবকিছুকে বিজ্ঞানের আলোকে দেখতে চেস্টা করে। সবকিছুর পিছনের কারন খুঁজে বের করতে চায়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের এই জয়জয়াকারের যুগেও ধর্ম এখনো তার স্বমহিমায় টিকে আছে। এর কারন কী?

সমাজবিজ্ঞানীরা ধর্ম টিকে থাকার পিছনে তিনটি প্রধান কারন খুঁজে বের করেছেন।

(১) কিছু অজানা বিষয়ের রহস্য বের করতে না পারা।

(২) মৃত্যুকে ঠেকাতে ব্যার্থ হওয়া।

(৩) ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা।

মানুষ একসময় ঝড়-বৃষ্টিকে মানুষের পাপ-পূণ্যের ফলাফল হিসেবে অতিপ্রাকৃত শক্তি বা স্রষ্টার শাস্তি-রহমত হিসেবে দেখতো। কিন্ত আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করে দেখিয়েছে ঝড়-বৃষ্টি একটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। বায়ুর তাপমাত্রা-পানিচক্র ইত্যাদির প্রভাবের কারনে ঝড়-বৃষ্টি হয়, মানুষের পাপ-পূণ্যের কারনে নয়।

কিছুদিন আগেও (অবশ্য এখনো) ভূমিকম্পকে মানুষের পাপের শাস্তি হিসেবে স্রস্টার গজব হিসেবে দেখা হত। অথচ বিজ্ঞান দেখিয়েছে ভূমিকম্প আমাদের পৃথিবীর বিশেষ অভ্যন্তরীণ গঠন বা ভূ-অভ্যন্তরস্থ ফাটলের কারনে হয়, কোন নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের পাপের শাস্তির ফলাফল হিসেবে না।

যদিও আধুনিক বিজ্ঞান অনেক অতিপ্রাকৃত রহস্যময় ঘটনাকে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যাসহ প্রমান করে দেখিয়েছে। এতদসত্বেও কিছু ঘটনা আছে যেগুলোর ব্যাখ্যা আধুনিক বিজ্ঞান এখনো দিতে পারে নি। তাই যতদিন বিজ্ঞান এই সকল বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা সমাধান দিতে না পারবে, ততোদিন পর্যন্ত হয়ত সমাজে ধর্ম টিকে থাকবে।

তবে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিজ্ঞান কোন স্থির বিষয় নয়, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। বিজ্ঞান একসময় অনেক ঘটনারই ব্যাখ্যা দিতে পারতো না কিন্তু এখন সে অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে পারে।

তাই বিজ্ঞান এখন যেসব বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে পারেনা, ভবিষ্যতেও যে তা পারবে না তা কিন্তু বলা যায় না। হয়তোবা, সময়ের সাথে সাথে আমরা এমন অনেক কিছু জানবো, যা কেউ ভাবেতেই পারে নাই আগে।

#SociologyOfReligion

Sunday, December 7, 2014

শুধু ধর্ম নয়; ব্যবসাকেও রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে।

ধর্মের নামে রাজনীতি যেমন ক্ষতিকর; তেমনি রাজনীতির নামে ব্যবসা বা ব্যবসার নামে রাজনীতিও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

ধর্মকে ধর্মের যায়গায় থাকতে দিতে হবে, কারো প্রতি ধর্মকে চাপিয়ে দেয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কাউকে ধর্ম পালনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও সমান অপরাধ।

রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় রাখতে হবে। রাজনীতি যেন হয় গনমানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার, শোষন মুক্ত সাম্যবাদী সমাজ প্রথিষ্ঠার হাতিয়ার। রাজনীতি যেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারন মানুষদের বঞ্চিত করে গুটিকয়েক মানুষের উপরে ওঠার সিড়ি না হয়।

ব্যবসাকেও ব্যবসার জায়গায় রাখতে হবে। রাজনীতিকে ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সুবিধা নেয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক স্বার্থে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করাও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।  মনে রাখতে হবে, ব্যবসা হতে হবে জনকল্যাণের জন্য; গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত অসম কল্যানের জন্য নয়।

Thursday, December 4, 2014

সেক্যুলারিজম কি?

ইউরোপীয় রেনেসাঁর আগে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা মনে করত, মৃত্যুর পর যে অনন্ত জগৎ অপেক্ষা করছে সেটাই আসল জীবন। দুনিয়ার জীবন তার এপেনডেজ বা আনুষংগিক বস্তু মাত্র।

খ্রীস্টানদের শিল্প সাহিত্য সবখানেই পরকালের মহিমাকীর্তন করা হত। যীশুখ্রীস্টতো এই নশ্বর পৃথিবীকে ভেল অব টিয়ার্স বলে গেছেন।

এই দৃষ্টিভংগি একদিনে,  একমাসে, একবছরে পাল্টায় নাই; অনেকদিন লেগেছে। রেনেসাঁর ফলে এই দৃষ্টিভংগিটা পাল্টে গেল। রেনেসাঁর আগে পরকালই ছিল সব। রেনেসাঁর পরে এই দুনিয়াটা ই সব, পরকাল কিছুই না। সংক্ষেপে বলতে গেলে এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভংগি অর্থাৎ পরকাল কে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইহকাল কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনাই হচ্ছে সেক্যুলারিজম।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের সাথে সেক্যুলারিজনের কিছুটা হলেও সাদৃশ্য আছে, অন্তত অন্যান্য ধর্মের তুলনায়। ইসলাম এমন একটা ধর্ম, যেখানে পরকালের সাথে সাথে ইহকালের ও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ইসলাম ধর্মের সাথে অন্যান্য ধর্মের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে, এখানে পরকালের গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে,  সাথে ইহকালের গুরত্বও অস্বীকার করা হয় নাই। ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ অর্থাৎ ইহকাল ও পরকালের গুরুত্বের কথা ইসলামে যেভাবে বলা হয়েছে,  অন্যান্য ধর্মে সেভাবে বলা হয় নাই।

আদি ধর্ম সমূহে ইহকালকে নয় শুধুমাত্র পরকালকেই আসল জীবন হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হত। তুলনামূলকভাবে ইসলাম সাম্রতিক ধর্ম হওয়ায় এতে পরকালের সাথে ইহকালেরও গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে। বিবর্তনের ধারায় যদি নতুন কোন ধর্মের আবির্ভাব হয়, তাহলে কি সেই ধর্মে পরকালের গুরুত্ব হ্রাস ও  ইহকালের গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে? নাকি প্রচলিত ধর্ম সমূহ টিকে থাকার জন্য হলেও ধর্মের সেক্যুলারাইজেশান হবে।