Showing posts with label ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়. Show all posts
Showing posts with label ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়. Show all posts

Tuesday, January 31, 2017

চিন্তার বিবর্তনের ইতিহাসঃ সমাজবিজ্ঞান কী এবং কীভাবে এলো?

প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় বসবাসকারী ‘অস্ট্রালোপিথেকাস’ নামক 'দ্য গ্রেট এইপ' থেকে বিবর্তিত হয়ে আদি মানবেরা সর্বপ্রথম পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়। মাত্র এক লক্ষ বছর আগেও পৃথিবীতে কমপক্ষে ছয় প্রজাতির মানব বসবাস করতো। সর্বশেষ  মাত্র ৩০ হাজার বছর আগেও আধুনিক মানব 'হোমো স্যাপিয়েন্সে'র সাথে 'হোমো নিয়ান্ডারথাল'রা এই পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াতো। অন্যান্য মানব প্রজাতি পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেলেও হোমো স্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানব প্রজাতি কীভাবে টিকে গেল তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, হোমো স্যাপিয়েন্সদের অসাধারন বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তার ক্ষমতাই তাদেরকে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। আর এ কারনেই আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম 'হোমো স্যাপিয়েন্স' বা 'বুদ্ধিমান মানব' রাখা হয়েছে। (Harari, 2014)*

হোমো স্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা চিন্তা করতে পারে। তবে এই চিন্তার ক্ষমতা কিন্তু একদিনে তৈরি হয় নি। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তার ক্ষমতা ও পদ্ধতির উন্নতি ঘটেছে। অজানাকে জানার কৌতূহল আর কোন ঘটনার পেছনের কারন জানতে চাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি থেকেই আদিম মানুষ তার আশেপাশের 'ঘটনা' কে বোঝা বা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা শুরু করে।

ধর্মতাত্তিক যুগ

আদিম সমাজে সব "ঘটনা"কে ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখা হত। অর্থাৎ কোন ঘটনার পিছনের কারন হিসেবে স্রষ্টা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হত।  যেমন- ঝড়-বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারন হিসেবে অতিপ্রাকৃত শক্তির ইচ্ছা বলে আদিম সমাজ বিশ্বাস করত।

মেটাফিজিক্যাল যুগ

যুগ যুগ ধরে মানুষ এভাবে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে চিন্তা করে আসছিল। তবে ধীরে ধীরে মানুষ আর "সবকিছুর পিছনের কারন হিসেবে অতিপ্রাকৃত শক্তির ভূমিকা" বিষয়ক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি। তারা ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে নিজেদের মত ভাবার চেস্টা করতে শুরু করল।

মূলত এভাবেই দর্শন শাস্ত্রের প্রাথমিক উৎপত্তি হয়েছে বলা যায়। দর্শন মূলত বিশ্বজগৎ, মানুষ ও তার কর্মকান্ডকে ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে জাগতিক যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। ধর্মের বাইরে গিয়ে যুক্তির আলোকে বিশ্বজগৎ ও তার কর্মকান্ডকে বিশ্লেষণ করার প্রচেষ্টা মানব ইতিহাসের এক চরম বৈপ্লবিক পরিবর্তন। 

দর্শনের আলোচনার বিষয়বস্তু ব্যাপক। দৃশ্যমান/ অদৃশ্যমান, প্রাকৃতিক/অপ্রাকৃতিক সবকিছু নিয়ে দর্শন আলোচনা করে। এককথায় বলা যায়, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখার উৎপত্তি স্থল হচ্ছে দর্শন।

বিজ্ঞানের যুগ

এরপরে প্রকৃতি, জগত ও তার কর্মকান্ডকে  আরো ভালভাবে বোঝার জন্য বিজ্ঞানের আবির্ভাব হয়।
দর্শনের সাথে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মূল পার্থক্য হচ্ছে, বিজ্ঞান শুধুমাত্র বাস্তব, দৃশ্যমান (observable) বস্তু/ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে দর্শন দৃশ্যমান/অদৃশ্যমান, প্রাকৃতিক/অপ্রাকৃতিক এমনকি কাল্পনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করতে পারে।

বিজ্ঞান ও দর্শনের পর্যবেক্ষন পদ্ধতিও ভিন্ন। দর্শন সবকিছুকে শুধুমাত্র মানবচিন্তা ও যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান সবকিছুকে আনুষংগিক তথ্যপ্রমাণ ও নানারকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করে।

দর্শনের অবজার্ভেবল বিষয়গুলোকে বিজ্ঞানের হাইপোথিসিসের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ যখনই দর্শনের কোন বিষয় তথ্যপ্রমান ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে সত্য প্রমানিত হয়; তখন আর সেটা শুধুমাত্র দর্শনে সীমাবদ্ধ থাকেনা, বিজ্ঞানে পরিনত হয়।

সমাজবিজ্ঞানের আগমন

বিজ্ঞানের আবিস্কার মানব সভ্যতার এক চরম মাইলফলক। বিজ্ঞানের জয়জয়াকারের ফলে মানুষ সবকিছুকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ, সমাজ ও তার কর্মকান্ড "বস্তুজগতের"র মত না হওয়ায় তাকে ব্যখ্যা করা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের জন্য কঠিন হয়ে দাড়ায়। ফলে উৎপত্তি হয় বিজ্ঞানের এক বিশেষ আপডেট ভার্সন সমাজবিজ্ঞান। ;)

সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ। সমাজ ও তার কর্মকাণ্ডকে নিরপেক্ষভাবে দেখার এবং ব্যাখ্যা করার বিজ্ঞানের নাম সমাজবিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান মানুষের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, প্রথা-প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মকাণ্ডের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। মানুষের আচার-অনুষ্ঠান ও কর্মকান্ডের উপর সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়েও সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে। যেমন- আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত কারন হিসেবে মনে করা হলেও সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম তার সামাজিক গবেষনার মাধ্যমে প্রমান করে দেখান যে আত্মহত্যার পিছনে শুধু ব্যক্তিগত কারনই নয়; এর পিছনে নানা সামাজিক কারণ জড়িত রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে গবেষনা করেনা। তবে সমাজে বিদ্যমান "অতিপ্রাকৃত" বিষয় সমূহের প্রভাব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করে। যেমন- স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে কি নাই তা প্রমান বা অপ্রমান করা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানের বিশেষ মাথাব্যাথা নাই। তবে স্রষ্টার অস্তিত্ত্ব বা অনস্তিত্ব বিষয়ক ধারনা সমাজে কী ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে তা সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার বিষবয়বস্তু হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সমাজবিজ্ঞানের গবেষনা পদ্ধতি বিজ্ঞানভিত্তিক হলেও তা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের গবেষনা পদ্ধতি থেকে কিছুটা আলাদা।

সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমাজের বিভিন্ন অংশ নিয়ে অধ্যয়ন করে। যেমন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজের রাজনীতি নিয়ে, অর্থনীতি সমাজের অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে এবং সামাজিক নৃবিজ্ঞান সমাজের সংস্কতি নিয়ে অধ্যয়ন করে। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান সামাজিক বিজ্ঞানের সকল শাখার মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় সাধন করে সমগ্র সমাজ ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে।

সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোৎ তার বিখ্যাত "বিজ্ঞানের উচ্চক্রমে" (science of hierarchy) সমাজবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ইত্যাদির উপরে স্থান দিয়েছেন। কারন তিনি মনে করতেন সমাজবিজ্ঞান অন্যান্য বিজ্ঞানের পরে এসেছে এবং তা বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার জ্ঞানকে ব্যবহার করে সবচেয়ে জটিল বিষয় "সমাজ ও সামাজিক মানুষের আচরন ও ক্রিয়া" কে অধ্যয়ন করে মানবজাতির কল্যান সাধন করবে।

* Harari, Yuval Noah (2014). Sapiens: A Brief History of Humankind

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন পরিচিতি ও উত্তর লেখার কৌশল!!!

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নের প্যাটার্ন বা ধরন কেমন হয়? আর তার উত্তরই বা কীভাবে লিখতে হয়?

সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রায় প্রতিটি ছেলে-মেয়ের কাছেই এগুলো মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। স্কুল-কলেজের ছকবাঁধা পড়াশুনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত পড়াশুনার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন ও উত্তর লেখার পদ্ধতিও স্কুল-কলেজ থেকে কিছুটা আলাদা থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্ন নানা ধরনের হতে পারে। কোর্স টিচার কোন প্যাটার্নে প্রশ্ন করবে এটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের উপর নির্ভর করে। তবে পরীক্ষার প্রশ্নের প্রচলিত কিছু সাধারন প্যাটার্ন আছে। বেশিরভাগক্ষেত্রে সেইসব সাধারন প্যাটার্নেই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নের সাধারন প্যাটার্নসমূহ দেখতে পোস্টের নিচের দেয়া ওয়েবলিংক ও ইউটিউব টিউটেরিয়াল দেখুন।

এছাড়া, সেমিনারের নাসির ভাই অথবা ইমিডিয়েট ব্যাচের কোন সিনিয়র ভাইয়া/আপুদের কাছ থেকে তাদের বিভাগীয় পরীক্ষার বিগত বছরের কোয়েশ্চেন সংগ্রহ করে দেখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সাধারনত বিগত বছরের কোয়েশ্চেন রিপিট হয় খুবই কম।

এর পরে আসি, ভার্সিটিতে পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর কীভাবে লিখতে হয়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত পড়াশুনার মত এই প্রশ্নের উত্তরও উন্মুক্ত। অর্থাৎ এর একক কোন ইউনিভার্সাল ছকবাঁধা ফরমেট নেই।

এ প্রসংগে একটা গল্প মনে পড়ে গেল। একবার আমেরিকার এক বিখ্যাত ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় একটা রচনামূলক প্রশ্ন এসেছিল এরকম.. What is courage? Cite with examples. অর্থাৎ সাহস কী? উদাহরণ সহ উত্তর দাও।

তো এই প্রশ্নের উত্তরে যে স্টুডেন্ট সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল সে কতটুকু আর কী লিখেছিল কল্পনা করতে পারবেন?

সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত সেই স্টুডেন্টটি পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে অর্থাৎ সম্পূর্ণ খাতাটি ফাঁকা রেখে একদম শেষের পৃষ্ঠায় যেয়ে শুধু This is the example of courage. লিখে খাতা জমা দিয়ে দেয় এবং ক্লাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পায়।

এ থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষার খাতায় ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়েও আপনি আপনার নিজস্ব স্টাইল বা সৃজনশীলতা ব্যবহার করে উত্তর করতে পারেন।

পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লেখার একক কোন ইউনিভার্সাল ফরমেট না থাকলেও জনপ্রিয় কিছু সাধারন ফরমেটতো আছেই। আপনি চাইলে সেগুলোও অনুসরণ করতে পারেন।

এসব ফরমেট নিয়ে আমার কিছু লেখার দরকার নেই। কারন সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নের ধরন এবং উত্তরপত্র লেখার কৌশলের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য দুই পর্বের চমৎকার একটা ইউটিউব ভিডিও টিউটোরিয়াল ও আমেরিকার RICE University এর একটা আর্টিকেলই যথেষ্ট। পোস্টের শেষে লিংক দেয়া আছে।

রাইস ইউনিভার্সিটি ও ইউটিউবের টিউটোরিয়াল দুটি মনোযোগ সহকারে কয়েকবার পড়লে/দেখলে পরীক্ষায় প্রশ্ন কীভাবে আসতে পারে এবং কীভাবে তার উত্তর লিখতে হয় তা নিয়ে অন্তত আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। 

ভিডিও টিউটোরিয়ালটি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলি, এটাতে সমাজবিজ্ঞানে মোটামুটি যে ধরনের প্রশ্ন হয় তার প্রায় সবগুলো প্যাটার্ন সম্পর্কেই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে চিত্র, চার্ট, উদাহরণ সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে এর সাথে আমি কয়েকটা কথা যোগ করতে চাই। সেগুলো হল:-

১) ভূমিকা আর উপসংহার আপনার নিজের ভাষায়, নিজের মত করে লিখতে পারেন। অবশ্য চাইলে কোটেশান/সাইটেশানও ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষকের কাছে শুরুতেই আপনার সম্পর্কে একটা পজিটিভ ইম্প্রেশান তৈরিতে চমৎকার একটা ভূমিকা ভাল কাজে দিতে পারে।

২) আনুষঙ্গিক রেফারেন্স বই, স্যারের ক্লাস লেকচার ইত্যাদি থেকে লেখার পাশাপাশি উত্তরের একটা অংশে আপনার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ/যুক্তি/অভিমত তুলে ধরতে পারেন।

৩) বাংলাদেশ সমাজ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে একাধিক উদাহরণ দিতে পারলে ভাল নম্বর পেতে সহায়ক হবে।

৪) উত্তরপত্তে সাইটেশান, কোটেশান, চার্ট, ডায়াগ্রাম, পরিসংখ্যানিক তথ্য-উপাত্ত চাইলে ব্যবহার করতে পারেন অথবা এসবের ব্যবহার ব্যতীত আপনি আপনার নিজের মত করেও লিখতে পারেন। কেননা সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এসব কোটেশান, চার্ট, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করেও যেমন সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে, তেমনি এর কোন কিছু ব্যবহার না করে শুধুমাত্র নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে লিখেও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার নজির আছে। তাই, আপনার উত্তরপত্র সৃজনশীল হলে এবং তাতে শক্তিশালী ও ক্রিটিকাল আর্গুমেন্টসের উপস্থিতি থাকলে ভাল নম্বর না পাওয়ার কোন কারন নাই।

সমাজবিজ্ঞানের উত্তরপত্র লেখার ইউটিউব ভিডিও টিউটোরিয়াল লিংক:

১ম পর্ব: https://youtu.be/v7Z4p9PwFNw

২য় পর্ব: https://youtu.be/DU_fYs0AkvU

উত্তরপত্র লেখার কৌশলের উপর RICE University এর লিংক:

sociology.rice.edu/content.aspx?id=106

দ্রষ্টব্য: এই লেখায় আমার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকতে পারে। তাই এটাকে একমাত্র সঠিক পদ্ধতি ভাবা মোটেই ঠিক হবে না। বরং এর বাইরেও উত্তরপত্র লেখার আরো অনেক টেকনিক বা পদ্ধতি থাকতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের বিভাগে সবসময় স্টুডেন্ট এডভাইজার হিসেবে তিনজন স্যার/ম্যাডাম নিয়োজিত থাকেন। তাদের সাথে পড়াশুনা সহ যেকোন বিষয়ে এমনকি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েও কথা বলা যায়। স্যার/ম্যাডামরা আন্তরিকতার সাথে সেগুলো শোনেন এবং যথাযথ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই পড়াশুনা সংক্রান্ত যেকোন পরামর্শের জন্য সরাসরি ম্যাডাম/স্যারদের সাথে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভাল ও নির্ভরযোগ্য।

NB: This post is written for the fresher students of Sociology, University of Dhaka.

Thursday, April 30, 2015

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র!

এই নক্ষত্রদ্বয়ের মধ্যে প্রথম জন হলেন, উপমহাদেশের অন্যতম ও বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সমাজবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ আই মাহবুব উদ্দীন স্যার। যিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আসা নবীন ছাত্রছাত্রীদের ট্রাডিশনাল চিন্তাধারাকে ভেংগে চুরমার করে দিয়ে সমাজবিজ্ঞান বোঝার জন্য প্রস্তুত করে দেন।

সমাজের সাধারন সদস্য হিসেবে ট্রাডিশনাল বিশ্বাস, নীতি-নৈতিকতার ধারনা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়তে আসা নবীন ছাত্রছাত্রীদের চিন্তার ধাঁধা ও দ্বন্দ্বে ফেলে দেয়া, চমৎকার বাচনভঙ্গির অধিকারী ও প্রচারবিমুখ এই সমাজবিজ্ঞানীকে বেশিরভাগ প্রথম সেমিস্টারের স্টুডেন্টরা বুঝতে না পারলেও সময়ের পরিক্রমায় স্যার প্রায় সব ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ে প্রিয় শিক্ষক হিসেবে স্থান করে নেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আমার অসম্ভব প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব হলেন প্রফেসর ড. এ এস এম আমানউল্লাহ স্যার। স্যারের সম্পর্কে বলতে গেলে বিশাল এক প্রবন্ধ লিখতে হবে। সংক্ষেপে বলি, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনএইডস সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা প্রকল্পে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন এই সমাজবিজ্ঞানী।

বাংলাদেশে এইডস নিয়ে যত কাজ হয়েছে তার সিংহভাগের পিছনে স্যারের নেতৃত্ব ও অবদান রয়েছে। হার্ভার্ড, এমআইটি সহ অসংখ্য বিশ্ববিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত অসংখ্য পেপারের লেখক, ছাত্রছাত্রীদের মেন্টর এই স্যার প্রতিদিন কমপক্ষে এক গ্যালোন লাফিং গ্যাস নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেন। ;) দীর্ঘ দুই ঘন্টা ব্যাপী স্যারের ক্লাসে বোরিং হওয়াতো দুরের কথা স্যারের চমৎকার অভিনয় ও লেকচারে হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল ধরে যায়।

প্রায় পাঁচ হাজার ডাক্তার ও হেলথ প্রফেশনালকে ট্রেনিং দেয়া গ্লোবাল সিটিজেন এই স্বাস্থ্য সমাজবিজ্ঞানী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বড় সামাজিক ট্যাবু সেক্স, সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার ও যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কিন্তু মার্জিত ও মজার ভংগিতে আলোচনা করে লজ্জাবতী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রছাত্রীদের ম্যাচুরিটি এনে দেন। ;) এভাবে সমাজের অসংখ্য বিচিত্র বিষয়কে সমাজবিজ্ঞানের চোখ দিয়ে দেখার ও বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা তৈরি করে দেন।